আমার মনটা পড়ে থাকলো, কবে যাবো যে এ সড়কে: প্রধানমন্ত্রী

0
388

সর্বশেষ আপডেট 1 year আগে | Nazrul Sagar

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: “শুকনার দিনের পাও (পা), বর্ষার দিনের নাও, একেই বলে ভাটি এলাকার গাঁও”- এই প্রবাদটিই এক সময় ছিলো মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু এই প্রবাদকে মিথ্যে করে দিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন উপজেলায় সম্প্রতি সদ্য নির্মিত ২৯.৭৩২ কিলোমিটারের নান্দনিক মহাসড়ক।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের এক অপরূপ লীলাভূমি কিশোরগঞ্জ জেলার এই হাওরাঞ্চল। হাওরের এই সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন এই হাওরে ছুটে আসছে ভ্রমণ পিপাসু হাজার হাজার পর্যটক। হাওরের এই রূপ সবাইকে বিমোহিত করছে প্রতিনিয়ত।

তেমনি এই হাওরের রূপে মুগ্ধ হয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটায় নান্দনিক অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইনের এই মহাসড়কের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাওরের বিস্ময় এ সড়কটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন ঘোষণার পর ভিডিওতে হাওরের বিস্ময় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়কের একটি ভিডিও চিত্র দেখানো হয়। এসময় হাওর ও সড়কটির সৌন্দর্য দেখে অভিভূত হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ইশ! কবে যে যাবো। এ সড়কে (দেখতে) কবে যে যাবো। হাওরের এই রূপ দেখতে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক দেখতে যেতে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনটা পড়ে থাকলো। এ সড়ক দিয়ে গাড়িতে কবে যাবো। রাষ্ট্রপতিও চান আমি যেন সরাসরি যাই। আমি যাবো। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে এ সড়ক দেখতে যাবো।

তিনি আরো বলেন, এক সময়ের নৌকা, লঞ্চ দিয়ে যাতায়ত করতো হাওর এলাকার মানুষ। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ঢেউয়ের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে এই এলাকার মানুষ জীবন নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন আর এই এলাকার মানুষ শুধু নৌকায় নয়, গাড়িতে করে ঢাকাসহ সারা দেশে যাতায়াত করতে পারবে। ব্যবসা-বানিজ্য পরিচালনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে পন্য পরিবহণসহ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে এখন হাওরে।

প্রধানমন্ত্রী অষ্টগ্রাম উপজেলার বিখ্যাত পনিরের প্রশসংসা করে বলেন, অষ্টগ্রামের পনির সারা বাংলাদেশে বিখ্যাত। একসময় এই পনির শুধু অষ্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ ছিলো। এখন হাওরের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে এই পনির সারা বাংলাদেশসহ বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবো। পনির হাওর এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরোও বলেন, হাওর এখন পর্যটনের প্রসিদ্ধ জায়গা। হাওর উন্নয়নে সরকার ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে হাওরকে দেশের মূল ভূ-খন্ডের সাথে সংযুক্ত করা হবে। হাওর উন্নয়নে, হাওরের মৎস সম্পদ উন্নয়নে সরকার সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে বলেও তিনি জানান।

হাওর বলতে বুঝাতো মাইলের পর মাইল চাষের জমি। বর্ষায় বিশাল জলরাশির সাথে নীল আকাশের কঠিন সখ্যতা। চারদিকে থৈ থৈ পানি আর হাওরের মাঝে ছোট্ট নৌকার মতো ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রাম। একটা সময় হাওর ছিলো শহর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি জনপদ।বর্ষায় নৌকা আর অন্য ঋতুতে পায়ে হাঁটা ছাড়া চলাচলের উপায় ছিল না হাওরবাসীর।

সম্প্রতি সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে অলওয়েদার ৪৭ কিলোমিটার উচু পাকা সড়ক ও ৩৫ কিলোমিটার সাবমার্সেবল সড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে নির্মাণ করা হয়েছে ২২টি পাকা সেতু ও ১০৪টি কালভার্ট। শুকনো মৌসুমে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার তিন উপজেলার বিভিন্ন নদীতে ৫ টি ফেরীর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় হাওরের মানুষের কষ্ট লাঘবে বিশাল হাওরের মধ্যে সড়ক নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন ‘ভাটির শার্দুল’ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ইচ্ছে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার মধ্যে সারা বছর চলাচলের জন্য নির্মিত হয় হাওরের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক। সড়কটি নির্মাণের ফলে শুধু হাওরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ দূর হয়েছে তা নয়, নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮৭৪.০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়কটি নির্মাণ করেছে। হাওরের বুক চিরে চলে যাওয়া ২৯.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ অলওয়েদার সড়কে ৫৯০.৪৭ মিটার দীর্ঘ তিনটি পিসি গার্ডার, ১৯০ মিটার দীর্ঘ ৬২টি আরসিসি বক্স কালভার্ট, ২৬৯.৬৮ মিটার দীর্ঘ ১১টি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৬১.৮১ মিটার দীর্ঘ ভাতশালা সেতু, ১৭১.৯৬৪ মিটার ঢাকী সেতু ও ১৫৬.৭২ মিটার দীর্ঘ ছিলনী সেতু সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্ষায় ভাঙন থেকে সড়ক রক্ষায় ৭.৬০ লাখ বর্গমিটার সিসি ব্লক দিয়ে স্লোপ প্রটেকশনের কাজ করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন
এখানে আপনার নাম লিখুন